নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণে হতাহত সম্পর্কে
আন্দোলন প্রতিবেদন
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ | অনলাইন সংস্করণ
নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকার এক মসজিদে গত ৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে এশার নামাজ পড়ার সময় ৫০ জনের মত মুসল্লি ছিলেন। ঐ সময় বিস্ফোরণে সবাই আহত হন। গুরুতর আহত ৩৬ জনের মধ্যে এ পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি ৫ জন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। ঘটনার পর পরই প্রধানমন্ত্রী এই বিস্ফোরণের জন্য গ্যাস লাইনের উপর মসজিদ নির্মাণ এবং ঐটুকু জায়গায় ৬টা এসির জন্য বিস্ময় প্রকাশ করেন। এবং মসজিদ নির্মাণের অনুমোদন ছিলনা বলে মূলত মসজিদ কমিটিকে দায়ী করে বক্তব্য দেন। কোন তদন্ত ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী এই উক্তিতে প্রশ্ন দেখা দেয় এই মসজিদ কমিটির লোকজন বিএনপি ঘরানার কিনা। পুলিশ তিতাস, ডিপিডিসি ও মসজিদ কমিটিকে দায়ী করে মামলা করেছে। প্রধানমন্ত্রী ১০ সেপ্টেম্বরের সংসদের শেষ অধিবেশনেও একই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেছেন।
ঘটনার পর পরই অভিযোগ প্রকাশিত হয় যে গ্যাস বা বিদ্যুতের সংযোগ ত্রুটি থেকেই এই বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছে। এ ছাড়া যে ছয়টি এসির উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তা-ও বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবস্থার সাথেই জড়িত। মসজিদ কমিটির বক্তব্য হচ্ছে গ্যাস লাইন বসানোর অনেক আগেই মসজিদের ভিত্তি প্রস্তুত করা হয়েছিল। গ্যাস লাইনের উপর মসজিদ নির্মাণ হয়ে থাকলে তার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশন বা রাজউকের। বলা হচ্ছে মসজিদ নির্মাণের কোন অনুমোদন ছিল না। এটিও দেখার দায়িত্ব ছিল রাজউকের। এখন গ্যাস লাইনেই কয়েকটি ছিদ্রও আবিষ্কার হয়েছে। এমনকি রাস্তার মধ্যেও গ্যাসের বুদ বুদ দেখা গেছে। কিন্তু সরকারি লোকজন বলছে গ্যাস পাইপে আর কোন ছিদ্র তারা পায়নি- এটা কতটা সত্য আর কতটা পিঠ বাঁচানো সেটি একটি প্রশ্ন। বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ত্রুটিও বের হয়ে আসে। প্রধানমন্ত্রী এবং তার সরকার কোন অবস্থাতেই এই বিস্ফোরণের দায় এড়াতে পারে না। কারণ গ্যাস সংযোগ, বিতরণ, এবং বিদ্যুৎ সংযোগ তার ব্যবহারের পরিমাণ এবং মসজিদ, বাড়ি নির্মাণের প্লান সরকারি প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে তিতাস, ডিপিডিসি এবং রাজউক অনুমোদন দিয়ে থাকে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে এগুলো কার্যকর করা হচ্ছে সরকারের প্রভাবশালী লোকজন সরকারি কর্মকর্তা ও মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের যোগসাজসে। চলে ঘুষের কারবার এবং অবৈধ সংযোগ। এগুলো চলে এখন প্রকাশ্যেই। এসব দুর্নীতি নিয়ে প্রায়ই পত্র-পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ভবন ধ্বসে, অগ্নিকান্ডে, বিস্ফোরণে, লঞ্চ-ট্রলার ডুবে, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় প্রতিদিন হতাহতের ঘটনা ঘটে চলেছে। ঘটনার ঘটার পর পরই একটি তদন্ত টিম করা হয়। সরকারি দলের লোক হলে তদন্তের সময়ই তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়। বা কিছু লোককে অপরাধীকে করে শাস্তি দেয়া হয়। যেমন গ্যাস লাইনে ছিদ্র পাওয়ায় তিতাসের ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনা দায় এড়াতে না পারলে বড় জোর স্থায়ী বরখাস্ত করা হয়/হবে। কিন্তু এসবের অবৈধ কারবার চলতেই থাকবে।
তিতাসের অবৈধ গ্যাস-সংযোগের সচিত্র প্রতিবেদন হলো ২৪৫ কিলোমিটার অবৈধ লাইন চিহ্নিত হয়েছে। তার মধ্যে নারায়ণগঞ্জে ১৭৯ কিলোমিটার, মুন্সিগঞ্জ ৩১কিমি, ঢাকা ২২ কিমি, গাজীপুর ২৩ কিমি। প্রতি সংযোগে ২০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা ঘুষ। আবাসিকে মাসে ৪০০-৪৫০ টাকা বিল তোলার তথ্য রয়েছে। অবৈধভাবে সংযোগ দিয়ে পরে বৈধ করা হয়। ২০১৮ সালে ৭ লক্ষ অবৈধ গ্রহককে বৈধতা দেয় তিতাস। আরও ২.৬৬ লাখ গ্রাহককে তথ্য ভান্ডারে যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু তার বৈধতা এখনও পায়নি। (সূত্র: প্রথম আলো.১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০)।
বাংলাদেশে অগ্নিকাণ্ডে বা বিস্ফোরণেও মানুষ মরছে অকাতরে। অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর প্রধান কারণ বৈদ্যুতিক গোলযোগ বা শটসার্কিট। গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৯৬ হাজার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মাঝে শটসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ৩৫ হাজার ৫৯৮ টির। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মারা গেছেন ৪৭৯ জন। গত বছর ২০ ফেব্রুয়ারিতে পুরান ঢাকা চুড়িহাট্টার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মারা যান ৭১ জন। এটি সহ অনেক ঘটনারই পুলিশ তার তদন্ত প্রতিবেদন নির্দিষ্ট সময়ে জমা দেয় না- বিচারতো দূরের কথা। পুরান ঢাকার নিমতলীতে বিস্ফোরণেও বহু লোক হতাহত হয়েছিল। কিন্তু বিস্ফারক দ্রব্যের কারখানাগুলো এখনও সরানো হয়নি। ঘুষের জোরে এখনও তা সেখানেই রয়েছে। নিম্নমানের ইলেকট্রিক সরাঞ্জাম কোথায় তৈরি হয় তা দেখারও দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু সরকার তা দেখছে না। এগুলো চলতে পারে ঘুষ-দুর্নীতির জোরে। অপরিকল্পিতভাবে বাসা-বাড়ি নির্মাণ এবং একটি পাড়ায় ততোধিক মসজিদ নির্মাণ (যা ধর্মের নামে প্রভাবশালীদের ক্ষমতার কেন্দ্র) -এগুলোর অনুমোদন বৈধ-অবৈধভাবে রাজউক থেকেই দেয়া হয়ে থাকে। ভবন নির্মাণে নির্দিষ্ট নিয়ম-নীতি মানা হচ্ছে কিনা তা দেখার দায়িত্বও রাজউকের। কিন্তু সে দায়িত্ব পালন হচ্ছে না। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ঘুষ-দুর্নীতির কারণেই এমন অব্যবস্থাপনা চলছে।
ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকার দুর্নীতি পরায়ণ রাষ্ট্র ব্যবস্থাটাকেই পরিচালনা করছে। এতে লাভবান হচ্ছে আমলা-মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া শ্রেণি। তার থেকে কমিশন খাচ্ছে সরকারের প্রভাবশালী রাগব-বোয়ালরা। তাদের যোগসাজস ছাড়া সরকারের সমস্ত প্রতিষ্ঠানে এমন দুর্নীতি সর্বদাই চলতে পারে না। শাসকশ্রেণির দুর্নীতি এবং তার অব্যবস্থাপনার শিকার হচ্ছে হাজার হাজার জনগণ। তারা মৃত্যুবরণ করে ঘরে-বাইরে, সড়কে-জলযানে, কলে-কারখানায়-তিলোত্তমা ভবনে এবং মসজিদেও। শাসকশ্রেণি এবং ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকার তাকে নিছক দুর্ঘটনা বলে এড়িয়ে যায়। নিদেন পক্ষে কিছু ব্যক্তিকে দায়ী করে শাস্তি দিয়ে জনগণকে বোক বানাতে চায়। নিজেদের গণবিরোধী কার্যক্রম ঢাকতে প্রধানমন্ত্রী সহ সকল মন্ত্রীরা আজগুবি, বানোয়াট ও অসত্য বক্তব্য প্রচার করে বেড়ায়। যেমন এবারের বানভাসি মানুষের কাছে পর্যাপ্ত খাদ্য এবং অন্যান্য সহায়তা না পৌঁছার আহাজারি প্রতিদিন পত্র-পত্রিকা ভরে থাকে। কিন্তু সরকার বলছে বন্যা তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পর্যাপ্ত সহায়তার ব্যবস্থা তারা নিয়েছে-ইত্যাদি।
গণবিরোধী এ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনগণের ন্যায়সঙ্গত ক্ষোভ এবং আন্দোলন-সংগ্রাম যাতে দানা বাঁধতে না পারে সেজন্য হাসিনা সরকার ফ্যাসিবাদী দমন-নির্যাতন চালায়। প্রতিবাদী বা ভিন্নমতকারী বা সরকারের সমালোচনাকারীদের উপর ডিজিটাল আইনের খড়গ ঝুলিয়ে রেখেছে। জনগণের মধ্যে ভয়-ভীতি সৃষ্টি করছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে গুম-খুন-ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করছে। ফ্যাসিবাদী চেতনায় সজ্জিত আওয়ামী কেডাররা ক্ষমতাবলে প্রতিদিন খুন করছে, ধর্ষণ-নির্যাতন চালাচ্ছে। সরকারের এই ফ্যাসিবাদ জনগণের চেতনায়ও প্রভাব ফেলছে। ফলে উপরোক্ত দুর্ঘটনার নামে মানুষ হত্যা ছাড়াও সামান্য কারণেই মানুষ একে অপরকে খুন করছে, বা পিটিয়ে হত্যা করছে। স্বামী স্ত্রীকে, বাবা সন্তানকে, ভাই ভাইকে খুন করছে। এমন খুনোখুনির ঘটনা প্রতিদিন খবরের কাগজ ভরে থাকে। এ জন্য শাসকশ্রেণি, সরকার এবং তাদের ব্যবস্থাকে দায়ী বা চিহ্নিত করা হচ্ছে না। কিছু দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তিকে দায়ী করে দুর্নীতিপরায়ণ ব্যবস্থাটাকে আড়াল করা হচ্ছে। জনগণকে তা গেলানো হচ্ছে।
সুতরাং দুর্ঘটনার নামে হাজার হাজার মানুষের অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী শাসকশ্রেণি, ফ্যাসিবাদী সরকার ও তাদের রাষ্ট্রব্যবস্থা। এদেরকে রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ না করলে জনগণ এমন অপমৃত্যু থেকে রেহাই পাবেন না। জনগণকে এই ফ্যাসিবাদী, সরকার ও দুর্নীতিপরায়ণ ও সন্ত্রাসী রাষ্ট্রব্যবস্থা পরিবর্তন করে শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্বে সমাজতন্ত্র-কমিউনিজম ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষে নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লব সফল করতে হবে। কেবলমাত্র মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদের আদর্শে সজ্জিত শ্রমিকশ্রেণির সংগঠনই পারে সেই বিপ্লব এগিয়ে নিতে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণে হতাহত সম্পর্কে
নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকার এক মসজিদে গত ৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে এশার নামাজ পড়ার সময় ৫০ জনের মত মুসল্লি ছিলেন। ঐ সময় বিস্ফোরণে সবাই আহত হন। গুরুতর আহত ৩৬ জনের মধ্যে এ পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি ৫ জন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। ঘটনার পর পরই প্রধানমন্ত্রী এই বিস্ফোরণের জন্য গ্যাস লাইনের উপর মসজিদ নির্মাণ এবং ঐটুকু জায়গায় ৬টা এসির জন্য বিস্ময় প্রকাশ করেন। এবং মসজিদ নির্মাণের অনুমোদন ছিলনা বলে মূলত মসজিদ কমিটিকে দায়ী করে বক্তব্য দেন। কোন তদন্ত ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী এই উক্তিতে প্রশ্ন দেখা দেয় এই মসজিদ কমিটির লোকজন বিএনপি ঘরানার কিনা। পুলিশ তিতাস, ডিপিডিসি ও মসজিদ কমিটিকে দায়ী করে মামলা করেছে। প্রধানমন্ত্রী ১০ সেপ্টেম্বরের সংসদের শেষ অধিবেশনেও একই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেছেন।
ঘটনার পর পরই অভিযোগ প্রকাশিত হয় যে গ্যাস বা বিদ্যুতের সংযোগ ত্রুটি থেকেই এই বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছে। এ ছাড়া যে ছয়টি এসির উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তা-ও বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবস্থার সাথেই জড়িত। মসজিদ কমিটির বক্তব্য হচ্ছে গ্যাস লাইন বসানোর অনেক আগেই মসজিদের ভিত্তি প্রস্তুত করা হয়েছিল। গ্যাস লাইনের উপর মসজিদ নির্মাণ হয়ে থাকলে তার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশন বা রাজউকের। বলা হচ্ছে মসজিদ নির্মাণের কোন অনুমোদন ছিল না। এটিও দেখার দায়িত্ব ছিল রাজউকের। এখন গ্যাস লাইনেই কয়েকটি ছিদ্রও আবিষ্কার হয়েছে। এমনকি রাস্তার মধ্যেও গ্যাসের বুদ বুদ দেখা গেছে। কিন্তু সরকারি লোকজন বলছে গ্যাস পাইপে আর কোন ছিদ্র তারা পায়নি- এটা কতটা সত্য আর কতটা পিঠ বাঁচানো সেটি একটি প্রশ্ন। বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ত্রুটিও বের হয়ে আসে। প্রধানমন্ত্রী এবং তার সরকার কোন অবস্থাতেই এই বিস্ফোরণের দায় এড়াতে পারে না। কারণ গ্যাস সংযোগ, বিতরণ, এবং বিদ্যুৎ সংযোগ তার ব্যবহারের পরিমাণ এবং মসজিদ, বাড়ি নির্মাণের প্লান সরকারি প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে তিতাস, ডিপিডিসি এবং রাজউক অনুমোদন দিয়ে থাকে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে এগুলো কার্যকর করা হচ্ছে সরকারের প্রভাবশালী লোকজন সরকারি কর্মকর্তা ও মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের যোগসাজসে। চলে ঘুষের কারবার এবং অবৈধ সংযোগ। এগুলো চলে এখন প্রকাশ্যেই। এসব দুর্নীতি নিয়ে প্রায়ই পত্র-পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ভবন ধ্বসে, অগ্নিকান্ডে, বিস্ফোরণে, লঞ্চ-ট্রলার ডুবে, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় প্রতিদিন হতাহতের ঘটনা ঘটে চলেছে। ঘটনার ঘটার পর পরই একটি তদন্ত টিম করা হয়। সরকারি দলের লোক হলে তদন্তের সময়ই তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়। বা কিছু লোককে অপরাধীকে করে শাস্তি দেয়া হয়। যেমন গ্যাস লাইনে ছিদ্র পাওয়ায় তিতাসের ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনা দায় এড়াতে না পারলে বড় জোর স্থায়ী বরখাস্ত করা হয়/হবে। কিন্তু এসবের অবৈধ কারবার চলতেই থাকবে।
তিতাসের অবৈধ গ্যাস-সংযোগের সচিত্র প্রতিবেদন হলো ২৪৫ কিলোমিটার অবৈধ লাইন চিহ্নিত হয়েছে। তার মধ্যে নারায়ণগঞ্জে ১৭৯ কিলোমিটার, মুন্সিগঞ্জ ৩১কিমি, ঢাকা ২২ কিমি, গাজীপুর ২৩ কিমি। প্রতি সংযোগে ২০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা ঘুষ। আবাসিকে মাসে ৪০০-৪৫০ টাকা বিল তোলার তথ্য রয়েছে। অবৈধভাবে সংযোগ দিয়ে পরে বৈধ করা হয়। ২০১৮ সালে ৭ লক্ষ অবৈধ গ্রহককে বৈধতা দেয় তিতাস। আরও ২.৬৬ লাখ গ্রাহককে তথ্য ভান্ডারে যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু তার বৈধতা এখনও পায়নি। (সূত্র: প্রথম আলো.১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০)।
বাংলাদেশে অগ্নিকাণ্ডে বা বিস্ফোরণেও মানুষ মরছে অকাতরে। অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর প্রধান কারণ বৈদ্যুতিক গোলযোগ বা শটসার্কিট। গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৯৬ হাজার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মাঝে শটসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ৩৫ হাজার ৫৯৮ টির। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মারা গেছেন ৪৭৯ জন। গত বছর ২০ ফেব্রুয়ারিতে পুরান ঢাকা চুড়িহাট্টার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মারা যান ৭১ জন। এটি সহ অনেক ঘটনারই পুলিশ তার তদন্ত প্রতিবেদন নির্দিষ্ট সময়ে জমা দেয় না- বিচারতো দূরের কথা। পুরান ঢাকার নিমতলীতে বিস্ফোরণেও বহু লোক হতাহত হয়েছিল। কিন্তু বিস্ফারক দ্রব্যের কারখানাগুলো এখনও সরানো হয়নি। ঘুষের জোরে এখনও তা সেখানেই রয়েছে। নিম্নমানের ইলেকট্রিক সরাঞ্জাম কোথায় তৈরি হয় তা দেখারও দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু সরকার তা দেখছে না। এগুলো চলতে পারে ঘুষ-দুর্নীতির জোরে। অপরিকল্পিতভাবে বাসা-বাড়ি নির্মাণ এবং একটি পাড়ায় ততোধিক মসজিদ নির্মাণ (যা ধর্মের নামে প্রভাবশালীদের ক্ষমতার কেন্দ্র) -এগুলোর অনুমোদন বৈধ-অবৈধভাবে রাজউক থেকেই দেয়া হয়ে থাকে। ভবন নির্মাণে নির্দিষ্ট নিয়ম-নীতি মানা হচ্ছে কিনা তা দেখার দায়িত্বও রাজউকের। কিন্তু সে দায়িত্ব পালন হচ্ছে না। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ঘুষ-দুর্নীতির কারণেই এমন অব্যবস্থাপনা চলছে।
ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকার দুর্নীতি পরায়ণ রাষ্ট্র ব্যবস্থাটাকেই পরিচালনা করছে। এতে লাভবান হচ্ছে আমলা-মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া শ্রেণি। তার থেকে কমিশন খাচ্ছে সরকারের প্রভাবশালী রাগব-বোয়ালরা। তাদের যোগসাজস ছাড়া সরকারের সমস্ত প্রতিষ্ঠানে এমন দুর্নীতি সর্বদাই চলতে পারে না। শাসকশ্রেণির দুর্নীতি এবং তার অব্যবস্থাপনার শিকার হচ্ছে হাজার হাজার জনগণ। তারা মৃত্যুবরণ করে ঘরে-বাইরে, সড়কে-জলযানে, কলে-কারখানায়-তিলোত্তমা ভবনে এবং মসজিদেও। শাসকশ্রেণি এবং ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকার তাকে নিছক দুর্ঘটনা বলে এড়িয়ে যায়। নিদেন পক্ষে কিছু ব্যক্তিকে দায়ী করে শাস্তি দিয়ে জনগণকে বোক বানাতে চায়। নিজেদের গণবিরোধী কার্যক্রম ঢাকতে প্রধানমন্ত্রী সহ সকল মন্ত্রীরা আজগুবি, বানোয়াট ও অসত্য বক্তব্য প্রচার করে বেড়ায়। যেমন এবারের বানভাসি মানুষের কাছে পর্যাপ্ত খাদ্য এবং অন্যান্য সহায়তা না পৌঁছার আহাজারি প্রতিদিন পত্র-পত্রিকা ভরে থাকে। কিন্তু সরকার বলছে বন্যা তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পর্যাপ্ত সহায়তার ব্যবস্থা তারা নিয়েছে-ইত্যাদি।
গণবিরোধী এ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনগণের ন্যায়সঙ্গত ক্ষোভ এবং আন্দোলন-সংগ্রাম যাতে দানা বাঁধতে না পারে সেজন্য হাসিনা সরকার ফ্যাসিবাদী দমন-নির্যাতন চালায়। প্রতিবাদী বা ভিন্নমতকারী বা সরকারের সমালোচনাকারীদের উপর ডিজিটাল আইনের খড়গ ঝুলিয়ে রেখেছে। জনগণের মধ্যে ভয়-ভীতি সৃষ্টি করছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে গুম-খুন-ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করছে। ফ্যাসিবাদী চেতনায় সজ্জিত আওয়ামী কেডাররা ক্ষমতাবলে প্রতিদিন খুন করছে, ধর্ষণ-নির্যাতন চালাচ্ছে। সরকারের এই ফ্যাসিবাদ জনগণের চেতনায়ও প্রভাব ফেলছে। ফলে উপরোক্ত দুর্ঘটনার নামে মানুষ হত্যা ছাড়াও সামান্য কারণেই মানুষ একে অপরকে খুন করছে, বা পিটিয়ে হত্যা করছে। স্বামী স্ত্রীকে, বাবা সন্তানকে, ভাই ভাইকে খুন করছে। এমন খুনোখুনির ঘটনা প্রতিদিন খবরের কাগজ ভরে থাকে। এ জন্য শাসকশ্রেণি, সরকার এবং তাদের ব্যবস্থাকে দায়ী বা চিহ্নিত করা হচ্ছে না। কিছু দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তিকে দায়ী করে দুর্নীতিপরায়ণ ব্যবস্থাটাকে আড়াল করা হচ্ছে। জনগণকে তা গেলানো হচ্ছে।
সুতরাং দুর্ঘটনার নামে হাজার হাজার মানুষের অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী শাসকশ্রেণি, ফ্যাসিবাদী সরকার ও তাদের রাষ্ট্রব্যবস্থা। এদেরকে রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ না করলে জনগণ এমন অপমৃত্যু থেকে রেহাই পাবেন না। জনগণকে এই ফ্যাসিবাদী, সরকার ও দুর্নীতিপরায়ণ ও সন্ত্রাসী রাষ্ট্রব্যবস্থা পরিবর্তন করে শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্বে সমাজতন্ত্র-কমিউনিজম ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষে নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লব সফল করতে হবে। কেবলমাত্র মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদের আদর্শে সজ্জিত শ্রমিকশ্রেণির সংগঠনই পারে সেই বিপ্লব এগিয়ে নিতে।
আরও খবর
- শনি
- রোব
- সোম
- মঙ্গল
- বুধ
- বৃহ
- শুক্র